ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১, ১৪ জিলহজ ১৪৪৫

টুং টাং শব্দে মুখরিত কামার পল্লী

প্রকাশনার সময়: ১০ জুন ২০২৪, ১৭:০১

কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে দা, ছুরি, বটি, চাপাতি, নারিকেল কোরানিসহ অন্যান্য দেশীয় জাতের লোহার জিনিসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারেরা। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে রাতদিন একাধারে তারা এসব হাতিয়ার তৈরিতে কাজ করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের কামারপাড়া, হাজিপুর বাজার, নতুন বাজার, পোস্ট অফিস মোড়, রামপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের হাট বাজারে এখন পুরোদমে পশু জবাইয়ের ছুরি, চামড়া ছাড়ানোর চাকু, নারিকেল কোরানি, মাংস কাটার চাপাতিসহ বিভিন্ন লোহার তৈরি জিনিসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন কামারেরা। দেখে মনেহয় যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের।

দা শান দিতে আসা ময়মনসিংহের পাগলা থানা খুরশিদ মহল এলাকার আব্দুল জব্বার, জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের ছয়শির গ্রামের আব্দুল মতিন, উপজেলার পিতলগঞ্জ চৌদার গ্রামের ইমরান হোসেনসহ অনেকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সারা বছর এগুলোর কোন কাজ না করায় নষ্ট হয়ে থাকে। শান দিয়ে পুরাতনগুলো দিয়েই মাংস কাটার কাজ চালিয়ে দিবেন। শান দিতে ৫০ টাকায় নেন কর্মকার।

স্থানীয় কর্মকার আশরাফ মিয়া, সুমন মিয়া, জিল্লুর রহমান, জলিল মিয়া, রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, বছরের অন্য সময়ের চেয়ে কুরবানি ঈদে তাদের আয় রোজগার অনেক বেশি হয়। এবার প্রতিটি ধারালো দা বিক্রয় হচ্ছে ৪০০-৬০০ টাকা, ছুরি ৫০০-৯০০ টাকা, চাপাতি ৬০০-১০০০ টাকা, চামড়া ছাড়ানোর চাকু ২৫০-৩০০ টাকা, নারিকেল কোরানি ৩০০-৪০০ টাকা, মাংস কাটার বটি ৪৫০-৮০০ টাকা।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় দুই শতাধিক কর্মকার এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের নিখুঁত কাজের সুনামের জন্য পাশের ময়মনসিংহের গফরগাঁও, নান্দাইল এবং পাকুন্দিয়া এলাকার লোকজনও ছুটে আসেন হোসেনপুরে।

উপজেলার আড়াইবাড়ীয়া গ্রামের কর্মকার মো, জিল্লুর রহমান জানান, সারা বছর কাজকর্ম অনেক কম থাকে। এর মধ্যে কয়দিন পর পর লোহার দাম বেড়ে যায়। এতে তারা বেকায়দায় পড়েন। ভালো চালান থাকলে আগে থেকে লোহা কিনে রাখতে পারলে ভালো লাভ পাওয়া যেতো। কোরবানির ঈদ আসলে পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস তৈরির কাজে প্রয়োজনীয় ওইসব হাতিয়ারের চাহিদা বেড়ে যায়।

দ্বীপেশ্বর পোস্ট অফিসের মোড়ে কর্মকার প্রদীপ চন্দ্র, হাজিপুর কামার পাড়ার বাসিন্দা বরূন, রামপুর বাজারের সুজিতসহ অনেকেই বলেন, ঈদে দা, চাপাতি ও ছুরির ব্যাপক চাহিদা থাকায় কাজের ব্যস্ততা অনেক বেশি।

তবে বাজারে আমদানিকৃত হাতিয়ার আসায় আমাদের তৈরি হাতিয়ারের চাহিদা অনেক কমে গেছে। তাই পূর্বপুরুষদের এই পেশা ধরে রাখা দুষ্কর হবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

নয়া শতাব্দী/এসআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ