ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১, ৮ মহররম ১৪৪৬

আজ ১০ জিলহজ যে পাঁচ কাজ করবেন হাজিরা

প্রকাশনার সময়: ১৬ জুন ২০২৪, ১০:১৯

আজ হজের তৃতীয়দিন ১০ জিলহজ। আজকের কার্যক্রম শুরু হয় মুজদালিফা থেকে। গতকাল ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দান থেকে ফিরে এসে মুজদালিফায় অবস্থান করেছিলেন হাজিরা। আজ মিনায় বড় জামারায় গিয়ে পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা।

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’ অর্থাৎ ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার’-এ ধ্বনিতে আজ মুখর থাকবে আরাফাতের ময়দান।

হাজিরা আজ মুজদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে সূর্য ওঠা পর্যন্ত দোয়া ও জিকির করবেন। এরপর তালবিয়া পাঠ করতে করতে মিনার পথে রওনা হবেন।

সেখানে বড় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ শেষে কোরবানি বা হাদির পর মাথামুণ্ডন করে ইহরাম খুলে ফেলবেন। এভাবে হাজিরা একে একে পাঁচটি কাজ করতে পারেন। তবে এর তিনটি সবাইকেই করতে হবে।

মিনায় গমন: হাজিরা আজ মুজদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে সূর্য ওঠা পর্যন্ত দোয়া ও জিকির করবেন। এরপর তালবিয়া পাঠ করতে করতে মিনার পথে রওনা হবেন।

কঙ্কর নিক্ষেপ: মিনায় আসার পথে হাজিরা কঙ্কর সংগ্রহ করবেন। কেউ মুজদালিফা থেকে আবার কেউ মিনার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে কঙ্কর সংগ্রহ করবেন। এরপর মিনায় গিয়ে বড় জামারায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এ দিন শুধু এ এক জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হয়।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ওঠার ১-২ ঘণ্টার মধ্যে কঙ্কর মেরেছিলেন। সে হিসেবে সূর্য পশ্চিমে ঢলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কঙ্কর নিক্ষেপ করা সুন্নত। এ দিন সূর্য ওঠা থেকে শুরু করে ১১ জিলহজ সুবহে সাদিক পর্যন্ত তিন দিন কঙ্কর মারা হয়।

কোরবানি বা হাদি আদায়: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তামাত্তু ও কিরান হজ আদায়কারীরা যে উট, গরু, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা ইত্যাদি পশু বাধ্যতামূলকভাবে জবেহ করে থাকেন তাকে হাদি বলা হয়। যারা কিরান ও তামাত্তু হজ করছেন তাদের কেনা পশু জবাই করা হবে। অনেকে বলে থাকেন এটা হজের কোরবানি, কিন্তু আসলে হজের ক্ষেত্রে এর নাম হলো হাদি। কোরবানি করা হয় ঈদে, হাদি পাঠানো হয় হজে আর দম দেয়া হয় হজের কাফ্ফারা আদায় করতে।

চুল কাটা: কোরবানি বা হাদি শেষে চুল কেটে ইহরামের কাপড় খুলে ফেলবেন হাজিরা। এরপর থেকে ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ হারাম ছিল তার প্রায় সবই হালাল হয়ে যাবে। শুধু স্ত্রী সহবাস করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের কেউ মাথা মুণ্ডন করবে ও কেউ চুল ছোট করবে। (সুরা আল-ফাতাহ ২৭)

তাওয়াফে জিয়ারত আদায়: হজের সর্বশেষ ফরজ বিধান হলো তাওয়াফে জিয়ারত। একে তাওয়াফে ইফাদাও বলা হয়। ১০ জিলহজ ফজরের সূর্য উদয়ের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত এ তাওয়াফ করা যায়। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ তাওয়াফ করে নেওয়াই উত্তম। তাই আজ কঙ্কর নিক্ষেপ শেষ হলে কেউ কেউ মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে জিয়ারত করবেন।

নয়াশতাব্দী/জিএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ