রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১

আল্লাহ নিজে দেবেন রোজার পুরস্কার

প্রকাশনার সময়: ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:০২

আল্লাহ বা তার রাসুল (সা.) আমাদের সব পুণ্যকর্মের বিনিময়ই আগাম বলে দিয়েছেন। কেবল রোজাই এমন নেক আমল যার প্রতিদান না বলে আল্লাহ নিজ হাতে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেক আমল তার নিজের জন্য, কেবল রোজা; তা শুধুই আমার জন্য। তাই আমিই এর প্রতিদান দেব। (বুখারি: ১৯০৪; মুসলিম: ১১৫১)।

মুসলিম শরিফের অন্য বর্ণনায় রয়েছে, প্রত্যেক আদম সন্তানকে তার নেক আমল দশ গুণ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেয়া হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, রোজার প্রতিদান ছাড়া; কারণ রোজা আমার জন্য, আর আমিই তার প্রতিদান দেব। কেননা আমার কারণে রোজা পালনকারী তার যৌনকর্ম ও আহার বর্জন করে থাকে। (মুসলিম: ১১৫১)।

হাদিসের দুটি তাৎপর্য দৃশ্যমান। প্রথমটি হলো— আল্লাহতায়ালা সব ইবাদতের মধ্য থেকে রোজাকে নিজের জন্য খাস করেছেন। কারণ রোজা আল্লাহর কাছে একটি মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। রোজাকে আল্লাহ ভালোবাসেন। রোজার মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রতি নিষ্ঠা প্রকাশ পায়। এটা বান্দা ও তার রবের মাঝে এমন এক গোপন ভেদ, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানতে পারে না। রোজা পালনকারী ইচ্ছা করলে মানবশূন্য জায়গা বা এলাকায় কোনো কিছু আহার করতে পারেন কিন্তু তিনি তা করেন না। কারণ তিনি জানেন তার একজন রব রয়েছেন, যিনি নির্জনেও তার অবস্থান জানেন। তিনিই তার ওপর এটা হারাম করেছেন। তাই তিনি রোজার সওয়াব লাভের আশায় এবং আল্লাহর শাস্তির ভয়ে আহার-বিহার পরিত্যাগ করেন।

এজন্যই আল্লাহ রোজা পালনকারী বান্দার এ ইখলাসের যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করে রোজাকে সব ইবাদত থেকে নিজের জন্য বিশিষ্ট করে নিয়েছেন। তাই তো তিনি বলেছেন, আমার বান্দা আমার কারণে যৌন কাজ ও আহার পরিত্যাগ করে থাকে। এ বিশিষ্টকরণের উপকারিতা দৃশ্যমান হবে কিয়ামত দিবসে। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ (রহ.) বলেন, কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তার বান্দার হিসাব নেবেন। বান্দার সব আমল থেকে তার পক্ষে অন্যের ওপর করা জুলুমের বিনিময় মিটিয়ে দেবেন।

অবশেষে যখন রোজা ছাড়া তার অন্য কোনো আমল থাকবে না, তখন আল্লাহ নিজের পক্ষ থেকে সব জুলুমের বিষয়টি নিজ দায়িত্বে নিয়ে বান্দাকে শুধু রোজার বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (তারগিব ওয়াত তারহিব : ২/৭)।

দ্বিতীয় তাৎপর্য হলো— রোজা সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, রোজার প্রতিদান আমি নিজে দেব। রোজার প্রতিদানকে আল্লাহ স্বীয় সত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন। কারণ অন্য নেক আমলের প্রতিদান দ্বিগুণ করে দেয়া হবে। প্রতিটি নেক আমল দশ গুণ থেকে সাতশ’ গুণ কিংবা তার চেয়েও বেশি হারে দেয়া হবে। পক্ষান্তরে রোজার সওয়াবের কোনো সংখ্যা গণনা না করে আল্লাহতায়ালা আপন সত্তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করেছেন। আর যেহেতু আল্লাহ হলেন সবচেয়ে বড়, মহান ইজ্জতের অধিকারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। তাই রোজার সওয়াব এত বিশাল হবে, যার কোনো হিসাব নেই। কেননা দান দানশীল অনুপাতেই হয়ে থাকে।

আর রোজা হলো আল্লাহর আনুগত্যে ধৈর্য অবলম্বন, আল্লাহ কর্তৃক হারাম বস্তুগুলো থেকে বাঁচার ক্ষেত্রে ধৈর্য অবলম্বন এবং দেহ ও মনের দুর্বলতা এবং ক্ষুধা ও তৃষ্ণার মতো আল্লাহর নির্ধারিত বিধান পালনে ধৈর্য ধারণ করার নামান্তর। সুতরাং রোজার মধ্যে ধৈর্যের সবই একত্র হয়েছে। আর আল্লাহতায়ালা সবর সম্পর্কে বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান হিসাব ছাড়া পূর্ণ করে দেয়া হয়।’ (সূরা যুমার: ১০)।

নয়া শতাব্দী/আরজে

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ

x
Naya Shatabdi