ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১, ৮ মহররম ১৪৪৬

কুকুরের মুখে মৃত নবজাতক, ময়মনসিংহে তোলপাড়

প্রকাশনার সময়: ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ১৯:২৯

নবজাতকের মরদেহ কামড়ে ধরে হেঁটে যাচ্ছে একটি কুকুর। সোমবার (১৫ জানুয়ারি) এমনই কয়েকটা চিত্র ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যা নিয়ে রীতিমত তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহে।

ভাইরাল হওয়া চিত্রে, কুকুরটি যে পথ ধরে হাঁটছে, সেই পথের একপাশে নীল টিনের বেড়া দেখা যায়। এতে বোঝা যায়, ছবিটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতাল এলাকার বর্তমান সময়ের ছবি। কেননা, বর্তমানে হাসপাতালের ভেতরে নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে, নীল টিনের বেড়া দিয়ে। ছবির ব্রাককগ্রাউন্ডও সেটাই বলছে।

ঘটনাটি ফ্রেমবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে মন্তব্য ছুড়েছেন সাংবাদিক ফজলুল হক নামের এক নেটিজেন। তিনি তার পোস্টে ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানায় মানুষ কুপিয়ে উল্লাস করেছে, রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ চত্বরে কুকুরের মুখে মৃত শিশু দেখে আতঙ্কিত হয়েছি। দুটি ঘটনা সহ্য করা কষ্টদায়ক।’

‘আমরা এখনো মানুষ হতে পারিনি’, বলেও মন্তব্য জোড়েন তিনি।

এদিকে মো. শাহজালাল হৃদয় নামে এক যুবক তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবি আপলোড করে লেখেন, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আজকে ১৫/০১/২০২৪ সোমবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে কুকুরের মুখে একটি বাচ্চার মৃতদেহ- ছবিটি ভাইরাল হয়েছে। আসলে এটি খুবই ন্যাক্কারজনক ও ঘৃণিত একটি ঘটনা। এই দায়ভার কার?’

কুকুরের মুখে মৃত নবজাতকের ছবিটি সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে, এ নিয়ে নেটিজেনদের ক্ষোভ ও অসন্তোষে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাদ যায়নি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালও। ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে হাসপাতালের ভেতরে-বাইরেও।

তবে মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে মমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক মো. জাকিউর রহমান বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া ছবিটি দেখেছি।’ এসময় ছবিটি ২০১৫ সালের বলেও দাবি করেন তিনি।

কিন্তু উপ-পরিচালকের এই দাবির সঙ্গে কোনোভাবেই একমত হতে নারাজ ময়মনসিংহ নগরীর ১৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হাসপাতাল সংলগ্ন চরপাড়া এলাকার মেসার্স মেডিকেয়ার এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মো. শাহজালাল হৃদয়।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালেও নগরীর বাঘমারা এলাকার কোনো একটি ক্লিনিকে এ ধরনের ঘটনার একটি ছবি ভাইরাল হয়। তবে সোমবার যে ছবিটি ভাইরাল হয়েছে, ওই ছবির লোকেশনে নীল টিনের বেড়া দেখা যায়। এতে বোঝা যায়- ছবিটি মমেক হাসপাতাল এলাকার বর্তমান সময়ের ছবি। কারণ বর্তমানে হাসপাতালের ভেতরে নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে, নীল টিনের বেড়া দিয়ে।

স্থানীয় এই আ.লীগ নেতা আরও বলেন, মমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে আউটসোর্সিংয়ের জন্য শত শত লোক নিয়োগ দিয়েছে। এই লোকগুলোকে দেখভাল করার জন্য আবার সুপারভাইজার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যারা পরিচ্ছন্নকর্মী আছেন, তারা যদি সঠিকভাবে এই জিনিসগুলো সংরক্ষণ করতেন, আজকের এই দৃশ্য মানুষের দেখতে হতো না। যেভাবেই বলেন না কেন, এর দায়ভার কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।

এদিকে, ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে তানভীর ইমতিয়াজ নামে একজন লিখেছেন, হাসপাতালের কর্মীরা কাজের প্রতি অবহেলা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক দৃশ্য আমাদের দেখতে হচ্ছে। এটি ময়মনসিংহবাসীর জন্য একটি দুঃখজনক ঘটনা। এরকম দৃশ্য ময়মনসিংহবাসীর আর কতকাল দেখতে হবে? ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আমার প্রশ্ন!

এছাড়াও সাখাওয়াত হোসেন রনি নামের অপর এক নেটিজেন লিখেছেন, ধিক্কার জানাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি। তাদের অবহেলার শিকার হয়েছে ফেরেশতা বাচ্চাটি। যে কারণে আজ এই বিরল ঘটনাটি দেখতে হলো। হাসপাতালের এসব কার্যকলাপ দেখে সাধারণ মানুষ তাদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে।

মমেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাসপাতালের ভেতরে এমন কোনো ধরনের ঘটনার সংবাদ আমি পাইনি। তবে বাইরের অনেকেই বলছে এবং ফেসবুকে আমিও দেখেছি। হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমি জানতাম। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

নয়া শতাব্দী/এনএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ